হঠাৎ গভীর রাতে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার্থীদের বাড়িতে ইউএনও সহ সরকারী কর্মকর্তারা। নিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর, দিচ্ছেন পড়াশোনা সহ বিভিন্ন পরামর্শ। ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বালাতে নিজের দায়িত্ববোধ থেকে উপজেলার শহর থেকে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রামে ছুটে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে যাচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রীতম সাহা।
উপজেলায় শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতর্ক প্রতিযোগীতা, কুইজ, কিশোর-কিশোরীদের কর্মশালা ও নিউট্রিশন অলিম্পিয়াড, খেলাধুলা, শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা, বইমেলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার পাশাপাশি একাধিক ব্যতিক্রমী কার্যক্রমে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন প্রীতম সাহা। তারই অংশ হিসেবে রমজান মাসের প্রথম থেকে রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বাড়িতে ‘সান্ধ্যকালীন হোম ভিজিট’ ব্যতিক্রম কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।
এসময় পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী, পরীক্ষায় মনোবল তৈরি এবং সুস্থতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন তিনি। হোম ভিজিটের সময় ইউএনও প্রীতম সাহা সরাসরি মতবিনিময় করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে। পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী, পরীক্ষায় মনোবল তৈরি এবং সুস্থতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার পরামর্শও দেন। এছাড়াও পরীক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করছেন প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও উপহার সামগ্রী, যা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।
হঠাৎ গভীর রাতে পরীক্ষার্থীদের বাড়িতে যাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে সন্তুষ্টি। তারা বলছেন, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন সরাসরি সম্পৃক্ততা নিঃসন্দেহে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। আগে কখনো কোনো অফিসার আমাদের বাড়িতে খোজ নিতে আসে নাই। এতে আমরা যেমন উৎসাহিত হয়েছি, তেমনি সন্তানরাও আরও মনোযোগী হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ইউএনও স্যারের উপহার এবং উৎসাহে আমরা অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি। অনেক সময় পরিক্ষার হলে অনেকেই মনোবল হারিয়ে ফেলে, এরকম উদ্যোগে আমাদের মনোবল দ্বীগুন বৃদ্ধ পাবে।
গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে মোবারক বলেন, ইউএনও মহোদয়ের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করছে। তার সান্ধ্যকালীন হোম ভিজিট কার্যক্রমে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বাড়ছে শিক্ষার্থীদের মনোবল।
হোম ভিজিটের সঙ্গে থাকা কাথুলী মাধ্যমকি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ২৫ বছরে চাকরির জীবনে এমন ব্যতিক্রম কার্যক্রম দেখিনায়। স্যারের পাশাপাশি আমরা শিক্ষক মহল এখন থেকে প্রতিটি শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে খোজ খরব নিবো।
ইউএনও প্রীতম সাহা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশাসনিক দিক নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মনিটরিং, উৎসাহ প্রদান এবং শিক্ষার প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি হবে। ফলে তারা ভবিষ্যতেও আরও ভালো করবে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।”
গাংনী উপজেলার সচেতন মহল, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তরিকুল ইসলাম






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































32.jpg)
































