সারা দেশে আওয়ামী লীগের যেসব নেতার বাড়ি ভেঙে দিল ছাত্র-জনতা

 অনলাইন ডেস্ক    ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ১৭:২৮:০০নিউজটি দেখা হয়েছে মোট 83 বার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে বসে বুধবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি নিয়ে সারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে ধানমন্ডী ৩২ নম্বরের বাড়িসহ সারা দেশে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে ছাত্র-জনতা।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিফলক, গ্রাফিতি মুছে ফেলা ও মুর্যাল ভেঙে ফেলা হয়।

রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি এক্সকেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বুধবার রাত ৮টার আগে থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িটিতে ঢুকে পড়ে। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত ভাঙচুর চালানো হয় বাড়িটিতে। একপর্যায়ে আনা হয় একটি এক্সকেভেটর।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচার খুলনার বাড়ি ‘শেখ বাড়ি’ ভেঙে দিয়েছে উত্তেজিত ছাত্র-জনতা। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার রাত ৯টার দিকে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে বাড়িটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এটি শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ আবু নাসেরের বাড়ি। এখানে শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই বাগেরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীন, খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শেখ সোহেল, শেখ রুবেল ও শেখ বাবু এবং শেখ হাসিনার ভাইপো বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় বসবাস করতেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ভোলা শহরের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ভোলা শহরের গাজীপুর রোডের ‘প্রিয় কুটির’ নামের বাসভবনে এই ঘটনা ঘটে।

বরিশালে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমীর হোসেন আমুর বাড়ি। বুধবার মধ্যরাতে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁদের বাসভবনে ভাঙচুর চালায়।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া ৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহাবুল আলম হানিফের বাড়িতে আবারও হামলা চালিয়েছেন ছাত্র-জনতা। বুধবার রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া শহরে একতারা মোড় এবং সরকারি কলেজ থেকে আনন্দ মিছিল বের করে ছাত্র-জনতা। আনন্দ মিছিলটি হানিফের বাড়ির সামনে এসে বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বাড়ির সামনের অংশ।

এদিকে নাটোর সদর আসনের সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাড়ি এবং পরিত্যক্ত একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা।

পিরোজপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল ও তাঁর ভাই পিরোজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মালেকের বাড়ি ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের সামনে শেখ হাসিনার ব্যঙ্গচিত্র দাহ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাত ১১টায় তারা শেখ হাসিনার এই ব্যঙ্গচিত্র দাহ করেন। অন্য দিকে কারমাইকেল কলেজের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়।

সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা বুলডোজার দিয়ে ম্যুরালটি গুঁড়িয়ে দেয়।

চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মশাল মিছিল করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তাঁরা কোনোভাবেই শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেনে নেওয়া হবে না বলে স্লোগান দেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত শেখ মুজিব এবং শেখ হাসিনার গ্রাফিতি মুছে ফেলা ও মুর্যাল ভেঙে ফেলেছেন শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হল ও অ্যাকাডেমিক ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনায় মুজিব পরিবারের নাম মুছে দিতে ভাঙচুর ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ময়মনসিংহ নগরের সার্কিট হাউস মাঠ সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গায় জেলা আওয়ামী লীগ অফিস ও শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার রাতে মিছিল নিয়ে এসে বুলডোজার দিয়ে এসব স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হয়।

অনলাইন ডেস্ক