লাগামহীন ডিমের বাজারে আবারও বেড়েছে অস্থিরতা। শুধুমাত্র রাজধানীতেই সপ্তাহ ব্যবধানে ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে ২০ টাকা পর্যন্ত। এতে প্রতিপিস ডিম কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ১৫ টাকা পর্যন্ত। এ নিয়ে বাজারের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
বাজারে ডিমের অস্বাভাবিক দামের লাগাম টানতে গত বছর আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। পাশাপাশি বেঁধে দেয়া হয়েছিল প্রতি পিস ডিমের দাম। এতে নিয়ন্ত্রণে আসে বাজার।
তবে চলতি বছরের মে মাসে এ বাজারে আবারও দেখা দেয় অস্থিরতা। এরপর থেকেই চড়া রাজধানীর ডিমের বাজার। লাগাম টানতে গত সেপ্টেম্বরে আরেফ দফা আমদানির অনুমতি এবং উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম বেঁধে দেয় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এতে যেন আরও চড়েছে ডিমের বাজার।
কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ও আগানগর এবং রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও হাতিরপুল কাঁচাবাজারসহ বেশকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬৫-১৭০ টাকায়, আর সাদা ডিম ১৬০-১৬৫ টাকায়। তবে এলাকার দোকানগুলোতে এ দাম পৌঁছেছে যথাক্রমে ১৮০ টাকা ও ১৭০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি পিস ডিমের দাম পড়ছে ১৫ টাকা পর্যন্ত।
এদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সবশেষ তথ্য বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরা প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকায়; এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৩-৫৫ টাকা। আর একমাস আগে দাম ছিল ৫২-৫৪ টাকা হালি।
অথচ সরকার-নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, খুচরায় ডিম বিক্রি হওয়ার কথা প্রতি পিস ১১ টাকা ৮৭ পয়সা এবং হালি ৪৭-৪৮ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে ডিমের দাম বাড়ায় খুচরাতেও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। ডিমের দামের এ উত্তাপে দিশেহারা নিম্ন, মধ্যবিত্ত ও শিক্ষার্থীরা।
তারা জানান, ডিমের বাজারে বড় একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। দ্রুত এ সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে, তা নাহলে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার অনেক বাইরে চলে যাবে ডিম।
হাফিজুর নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা যারা নিয়মিত মাছ-মাংস খেতে পারি না, তাদের জন্য ডিমই ছিল ভরসা। তবে এখন এটিও নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।’
বেসরকারি চাকরিজীবী মান্নান বলেন, ‘সরকার ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। সে অনুযায়ী দাম হওয়ার কথা প্রতি পিস ১১-১২ টাকা, সেখানে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা করে। এ যেন মগের মুল্লুক। এখন সিন্ডিকেটের লাগাম টেনে ধরতে হবে।’
তবে ডিমের বাজার অস্থির হওয়ার জন্য দেশের বড় খামারি ও রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পাইকারি ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন ক্ষুদ্র খামারিরা। মুরগির খাবার ও বাচ্চার দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ডিমের দামও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি সরকার ডিমের দাম নির্ধারণ করার সময় ক্ষুদ্র খামারিদের দূরে রাখা হয়েছিল। এ সুযোগে দাম বাড়াচ্ছে করপোরেট গ্রুপগুলো।
তেজগাঁও পাইকারি ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি আমানত উল্লাহ সময় সংবাদকে বলেন, সম্প্রতি বন্যায় খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। এতে বাজারে চাহিদার তুলনায় ডিমের সরবরাহ কম। তার ওপর বাজারে সবজি ও মাছ-মাংসের দাম চড়া হওয়ায় বাড়ছে ডিমের দাম।
এতে বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি পিস ডিম ১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নভেম্বরের শুরুর দিকে ডিমের দাম কমতে শুরু করবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শীতের সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলে দাম কমবে। তখন মানুষ সেদিকে ঝুঁকবে কিছুটা। ফলে ডিমের ওপর চাপ কমবে। তখন দাম নাগালে চলে আসবে।
অনলাইন ডেস্ক





































































































































