দেশের ৫২ তম বাজেটে যেসব পন্যের দাম বাড়তে পারে

 অনলাইন ডেস্ক    ১ জুন, ২০২৩ ১৭:০৭:০০নিউজটি দেখা হয়েছে মোট 36 বার

২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট বাংলাদেশের ৫২ তম বাজেট। এই বাজেটে ব্যপক হারে বাড়ানো হচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

নিত্যদিনের ব্যবহৃত সামগ্রী যেমন: অ্যালুমিসিয়ামের তৈজসপত্র, কলম, টয়লেট টিস্যু, প্লাস্টিক, মোবাইল ফোন উৎপাদনে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ডলার সাশ্রয়ে এবং শুল্ক ফাঁকি রোধে খেজুর, কাজুবাদামের মতো খাদ্যসামগ্রীর আমদানি শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই বাজেট জীবনযাত্রার খরচ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।

গত ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রাজস্ব আয়ে প্রায় ৩৪ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। অর্থবছর শেষে ঘাটতির পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা হলে আগামী অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনে ২৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে।

এই বিশাল পরিমাণ প্রবৃদ্ধি অর্জনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করজাল বাড়ানোর পাশাপাশি করহার বাড়ানোর চিন্তা করছেন।

প্রতিবছর বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়াতে এনবিআর পণ্যের শুল্ককর ও ভ্যাট হ্রাস-বৃদ্ধি করে থাকে। এতে বাজারে ওইসব পণ্যের দাম বাড়ে-কমে। এবার কর আদায় বাড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনে বাজেটে নিত্যব্যবহার্য বেশ কয়েকটি পণ্যের করহার বাড়ানো হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দেশে পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

কলম, সিগারেট, জর্দা-গুল, খেজুর, সিমেন্ট, কাজুবাদাম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার, টয়লেট টিস্যু, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্র, বিদেশি টাইলস, মোবাইল ফোনসেট, বাসমতী চাল, চশমার ওপর শুল্ক-কর অথবা ভ্যাট বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গৃহস্থলি সামগ্রীর ক্ষেত্রে বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের তৈরি সব ধরনের টেবিলওয়্যার, কিচেনওয়্যার, গৃহস্থালি সামগ্রী উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে, এটি বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে।

একই হারে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী ও তৈজসপত্রের ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিসু, ন্যাপকিন টিসু, ফেসিয়াল টিসু/পকেট টিসু ও পেপার টাওয়াল উৎপাদনে ৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে, এটি বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এতে টিসু পেপারের দাম বাড়তে পারে।

শুল্ক ফাঁকি রোধে বাজেটে সব ধরনের ওভেনের আমদানির শুল্ক ৩০ শতাংশ বাড়াচ্ছে, মোট করভার ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ করছে। এতে বিদেশি ওভেনের দাম বাড়তে পারে। এছাড়া সারা দেশে রান্নার কাজে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হয়। বাজেটে সিলিন্ডার উৎপাদনে ব্যবহৃত স্টিল ও ওয়েল্ডিং ওয়্যার আমদানিতে শুল্ক আরোপ এবং উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে। এতে বাজারে সিলিন্ডারের দাম বাড়তে পারে। বিরিয়ানি-তেহারির প্রধান উপকরণ বাসমতি চাল আমদানিতে ভ্যাট বসানো হচ্ছে। এতে চালের দাম বাড়তে পারে।

বাজেটে তাজা ও শুকনা খেজুর আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ফল ও বাদামের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে বিধায় ফল ও বাদামের দাম বাড়তে পারে।

ধূমপানের অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করাই ভালো। বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়ানো হচ্ছে। নিম্নস্তরের এক প্যাকেট (২০ শলাকার) সিগারেটের (হলিউড, ডার্বি) দাম ৯০ টাকা, মধ্যমস্তরের (স্টার, নেভি) ১৩৪, উচ্চস্তরের (গোল্ডলিফ) ২২৬ এবং অতি উচ্চস্তরের (বেনসন, মালবোরো) সিগারেটের দাম ৩০০ টাকা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে জর্দা-গুলের দামও। বিড়ির দাম অপরিবর্তিত থাকবে।

মোবাইল ফোনে ২ শতাংশ ভ্যাট বসানো হচ্ছে। এছাড়া বাচ্চার জন্য কলম কেনার খরচও বাড়বে। কলম উৎপাদনে বর্তমানে ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে, সেখানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানো হচ্ছে। এতে কলমের দাম বাড়তে পারে। চশমার ফ্রেম ও সানগ্লাস আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হচ্ছে।এছাড়া উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা হচ্ছে।

আসন্ন বাজেট বাড়ি নির্মাণের খরচ বাড়াবে। বাড়ি নির্মাণের প্রধান উপকরণ সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার আমদানিতে বর্তমানে টনপ্রতি ৫০০ টাকা শুল্ক আছে, এটি বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হচ্ছে। এ কারণে সিমেন্টের দাম বাড়তে পারে। বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত বিদেশি টাইলসের দাম বাড়তে পারে।

অবশ্য এবারের বাজেটে পন্যের দাম কমার তালিকাটি একেবারেই ছোট।


অনলাইন ডেস্ক