চিকিৎসক সংকটে ভুগছে গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

  তরিকুল ইসলাম    ৪ মে, ২০২৫ ১০:৪৯:০০নিউজটি দেখা হয়েছে মোট 30 বার

১৯৬৩ সালে নির্মিত ৩১ শয্যা বিশিষ্ট গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০০৬ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর ২০১৭ সালে নতুন ভবনে শুরু হয় স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই পুরনো জনবল দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা।

১০ জন কনসালটেন্ট ও ১৬ জন মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও বাস্তবতায় রোগীদের সেবা দিচ্ছেন মাত্র ১ জন কনসালটেন্ট ও ৬ জন মেডিকেল অফিসার। মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় জনবল সংকটে একদিকে যেমন সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকেরা অন্য দিকে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষ।

তাছাড়া বন্ধ রয়েছে আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এক্স-রে মেশিন ও সিজারিয়ান অপারেশন। ফলে রোগীরা ইনডোর ও আউটডোরে সঠিক সেবা পাচ্ছেনা। জরুরী বিভাগও থাকছে মাঝে মাঝে চিকিৎসক শূণ্য। আউটডোরে সামান্য ডাক্তার দেখাতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা। আর ইনডোরের রোগীরা সঠিক চিকিৎসা ও সরকারী ঔষধ থেকে বঞ্চিত।


হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী রাসেল রানা জানান, সামান্য ডাক্তার দেখানে সময় লাগে ৩-৪ ঘন্টা। টিকিট নেওয়ার সময় দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে থাকতে হয়। ডাক্তারের রুমরে সামনেও থাকে লম্বা সিরিয়াল। পর্যাপ্ত ডাক্তার থাকলে এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়না।

ইনডোরে ভর্তি থাকা শিশু রোগীর স্বজন পরভিনা আক্তার বলেন, ফাতেমার ভর্তির পর বেড পাওয়া যায় নি, তাই বাধ্য হয়ে মেজেতে থাকেই সেবা নিতে হচ্ছে। ঔষধও ঠিক মত পাওয়া যায় না। সকল ঔষধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। এদিকে জরুরী বিভাগও থাকে মাঝে মাঝে ডাক্তার শূণ্য।


তাৎখনিক চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে রক্ত পরিক্ষা ছাড়া অন্য কোনো পরিক্ষা করা হয়না। সকল টেস্ট বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করতে হয়।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং সুপারভাইজার সাজেদা খাতুন জানান, ইনডোরে যেখানে ৫০ টি রোগীর বেড রয়েছে সেখানে প্রতিদিন দেড়শতাধিক রোগীর সেবা দিতে হয়। এছাড়া বেশ কিছু নার্স ডেপুটেশন ও মাতৃকালী ছুটিতে থাকায় মাত্রাতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে শঙ্কিত হচ্ছি।

এদিকে শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায় আউটডোরে রোগী দেখছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানন, প্রতিদিন আউটডোরে সেবা নিতে অসেন ৪ শতাধিক রোগী। তাই কনসালটেন্ট না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন তিনি।


উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, ইনডোর, আউটডোর, ইমার্জেন্সি, এমওডিসি, এনসিডি কর্নারসহ সকল দ্বায়ীক্ত মাত্র ৫-৬ জন মিলে দেখাশোনা করাটা সম্ভব নয়, মাঝে মাঝে অধিক সময় ডিউটি করতে হয় তাই প্রয়োজন পর্যাপ্ত জনবলের।

অপর্যাপ্ত জনবলের কারণে রোগীদের সেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রানী বলেন, মাত্র ১ জন কনসালটেন্ট ও ৬ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে সঠিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। জনবল সংকট নিরসন হলেই চিকিৎসা সেবা অব্যাহত হবে

তরিকুল ইসলাম