মেহেরপুরের পাট চাষিদের মাথায় হাত উৎপাদন খরচের অর্ধেক দাম হচ্ছে না

 অনলাইন ডেস্ক    ২৯ আগষ্ট, ২০২৩ ১৭:৪২:০০নিউজটি দেখা হয়েছে মোট 139 বার

মেহেরপুরে চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন হলেও দাম নিয়ে হতাশ চাষিরা। পাট জাগ ও দাম নিয়ে চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে কৃষকদের কপালে। অনেক চাষিরা শ্রমিক ও পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না।

এ ছাড়াও পাট জাগ দেওয়ার পানি ভাড়া ও আঁশ ছাড়ানোর যে খরচ হচ্ছে তার অর্ধেক টাকা হচ্ছে পাট বিক্রি করে। আর বাকি অর্ধেক টাকা গুনতে হচ্ছে কৃষকের পকেট থেকে। অন্যান্য বছরে পাটের দাম যায় হোক না কোনো ক্রেতা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু এই বছর পাট কেনার তেমন ক্রেতা না থাকায় পাইকারি ব্যাপারীরা ইচ্ছে মোতাবেক দাম বললে কৃষকদের সেই দামেই পাট বিক্রি করতে হচ্ছে।

কৃষকেরা বলেন, এক মণ পাট ঘরে তুলতে খরচ হয়েছে দুই হাজার টাকা। বর্তমান বাজারে এক মণ পাট বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকায়। শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে লোকসানেই পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।

কৃষকেরা আরও বলেন, গত দুই বছরে পাটের দাম ভালো থাকায় এ বছর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জমিতে পাট চাষ করেছি। বীজ রোপণ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রতিমণ পাট ঘরে তুলতে প্রায় ২৪-২৫শ টাকা খরচ হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৪০ শতক জমিতে আড়াই মাসে আয় তিন লাখ টাকা...

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলের কৃষকের অর্থকারি ফসল হচ্ছে পাট। গত দুই বছর পাটের দাম ভালো পেয়ে এবার অধিক জমিতে পাট চাষ করেছেন কৃষকরা।

তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় প্রায় ২২ হাজার ৭৩৪ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। জেলায় এবছর পাট চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ২১ হাজার হেক্টর। প্রতি বিঘা জমিতে পাটের ফলন হয়েছে ১২ থেকে ১৪ মণ।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শংকর ককমার মজুমদার বলেন, গত বছরে পাটের দাম ভালো হওয়ায় এই বছরে চাষিরা বেশি পাট চাষ করেছেন। তবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের পানির অভাবে পাট জাগ দিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি হলে এ সমস্যা থাকবে না। বর্তমান বাজারে পাটের দাম নেই। কৃষকরাও হতাশ। তবে কিছু দিনের মধ্যে পাটের দাম বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছি।

অনলাইন ডেস্ক