আগাম ফুলকপি চাষ করে সফল হয়েছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কৃষক। গত বছরও আগাম কপি চাষ করেছিলেন অনেকেই, তবে ভালো দাম পাননি। এ বছর ভালো দাম ও ফলন বেশী হওয়ায় কৃষকেরা খরচ মিটিয়ে আর্থিক ভাবে বেশ লাভবান হচ্ছেন।
স্থানীয় বাজারেও এখন আগাম ফুলকপির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের বড় আজলদী গ্রামের চাষি ছন্দু মিয়া বলেন - "এই বছর ৭০ শতাংশ জায়গার মধ্যে ৯ হাজার চারা লাগাইছি, আগাম কপি। আমার কপি ক্ষেতে ফলন আইছে। প্রতি পিছ কপি ৩৫, ৪০, ৪৫ টাকা করে পাইকারি দামে বিক্রি করতাছি। সেই অনুমানে আমার ৯ হাজার কপি ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বিক্রি হতে পারে। আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। খরচ বাদে ২ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা আমার লাভ হতে পারে। আগাম কপি করাতে আমি খুব লাভবান।"
তিনি ছাড়াও এই এলাকায় অনেকেই ফুলকপির আগাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। মৌসুমের শুরুতে বেশ চাহিদা থাকায় ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে তাদের ফুলকপি। অনেকের জমি থেকে পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলার চন্ডিপাশা, সুখিয়া, চরফরাদী, এগারোসিন্দুর, বুরুদিয়া, পাটুয়াভাঙ্গা, নারান্দী, হোসেন্দী, জাঙ্গালিয়া ও পাকুন্দিয়া পৌরসভার আশপাশে ব্যাপক পরিমানে ফুলকপি চাষ হয়েছে। এর মধ্যে অনেকের ফুলকপি বিক্রি শেষের পথে। চন্ডিপাশা ইউনিয়নে অপর একটি জমিতে সপ্তাহ খানিকের মধ্যে বাজারে বিক্রি করা যাবে বলে জানান জমির মালিক রতন মিয়া। তিনি বলেন-"আমি ৩৫ শতাংশ জায়গা করেছি, এককানি জাগা, লেঞ্জা জাতের,এই ফলনডা সাপ্তাহ খানেকের ভিতর আইবো। লেঞ্জা জাতটা আগাম লাগে আরকি।"
৩৫ শতাংশ যায়গায় তার খরজ পড়েছে ১৫ হাজার টাকা। এখন জমিতে কপির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। উপজেলার বড় আজলদী গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া জানান- ১৫ শতাংশ জমিতে ১২ থেকে ১৪ শত ফুলকপির চারা রোপন করেছিলেন। এর মধ্য থেকে সাড়ে ৩শ কপি বিক্রি করে তার খরচের ১০/১২ হাজার টাকা উঠিয়ে ফেলেছেন ।
আগে ৪০ টাকা প্রতি পিছ বিক্রি করলেও এখন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাকি যে হাজার-১২শত ফুলকপি রয়েছে,সেগুলো তার লাভের উপর রয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলার চন্ডিপাশা ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন- "এই এলাকার মাটি ফুলকপি এবং বাঁধা কপি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষকেরা প্রতিবছরই এই এলাকায় ফুলকপি এবং বাঁধাকপি চাষ করে থাকেন। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যে ২ থেকে ৪ গুন লাভবান হয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠে থেকে তাদেরকে সর্বাত্মক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।"
জাহিদ হাসান মুক্তার,কিশোরগঞ্জ প্রতিনি


















































































