রতন টাটা মারা গেছেন

 অনলাইন ডেস্ক    ১০ অক্টোবার, ২০২৪ ০৯:৪১:০০নিউজটি দেখা হয়েছে মোট 71 বার

ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী রতন টাটা মারা গেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (৯ অক্টোবর) রাতে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৮৬ বছর বয়সি এই শিল্পপতি। খবর এনডিটিভির। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন এক বিবৃতিতে রতন টাটার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা অতি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, রতন নেভাল টাটা আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের নেতা। শুধু টাটা গ্রুপ নয় জাতি গঠনেও ছিল তার ভূমিকা।’

অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন বিশিষ্ট এই শিল্পপতি। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছিলো বিভ্রান্তিকর তথ্য। তবে বুধবার রাতে টাটা গ্রুপ থেকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।

রতন টাটার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে তিনি বলেন, ‘রতন টাটা একজন মহান ব্যক্তি ছিলেন। ভারতের বিভিন্ন সেক্টরে অবদানের জন্য তিনি অমর হয়ে থাকবেন। রতন টাটার মৃত্যুতে ভারতের শিল্প মহলেও গভীর শোক নেমে এসেছে।’

১৯৩৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর মুম্বাইয়ে জন্ম রতন টাটার। বাবা নভল টাটার জন্ম গুজরাটেরর সুরতে। ১৯৯১ সালে ১০০ বিলিয়ন ডলার বাজার মূল্যের কংগ্লোমারেটের চেয়ারম্যান হন রতন টাটা। ২০১২ সাল পর্যন্ত একশ বছরেরও বেশি আগে তার প্রপিতামহ এই গ্রুপটি প্রতিষ্ঠা করেন।

রতন টাটা ১৯৯৬ সালে টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি টাটা টেলিসার্ভিসেস প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০৪ সালে তার নেতৃত্বে আইটি কোম্পানি টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ২০০৪ সালে টাটা গ্রুপ আইকনিক ব্রিটিশ গাড়ির ব্র্যান্ড জাগুয়ার এবং ল্যান্ড রোভার অধিগ্রহণ করে। ২০০৯ সালে রতন টাটা মধ্যবিত্তের নাগালে বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা গাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন। মাত্র ১ লাখ রুপির টাটা ন্যানো বাজারে আনেন তিনি।

রতন টাটা টাটা গ্রুপের দুইবার চেয়ারপারসন ছিলেন-১৯৯১ থেকে ২০১২ এবং ২০১৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত। শেষের দিকে কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে সরে এলেও টাটার দাতব্য ট্রাস্টের প্রধান ছিলেন। পরে সাইরাস মিস্ত্রি টাটা সন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে রতন টাটার স্থলাভিষিক্ত হন। কিন্তু পরে কোম্পানির পরিচালনা তাকে বরখাস্ত করে। ২০২২ সালে তিনি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। এ নিয়ে টাটা গ্রুপের সঙ্গে সাইরাসের তিক্ততা অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।

পদত্যাগ করার পর টাটা সন্স, টাটা ইন্ডাস্ট্রিজ, টাটা মোটরস, টাটা স্টিল এবং টাটা কেমিক্যালসের চেয়ারম্যান ইমেরিটাস হন রতন টাটা। অবসর নেয়ার অনেক পরে রতন টাটা সোশ্যাল মিডিয়াতে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন। ৩৬০ ওয়ান ওয়েলথ হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৩ অনুযায়ী, এক্সে ১৩ মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার এবং ইনস্টাগ্রামে ১০ মিলিয়নের বেশি অনুসারী নিয়ে ভারতে ‘সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা উদ্যোক্তা’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন রতন টাটা।

২০০০ সালে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান পান রতন টাটা। ২০০৮ সালে পান ‘পদ্ম বিভূষণ সম্মান’। মহারাষ্ট্র, আসাম সরকারও তাকে সম্মান প্রদান করে। ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ, লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স, আইআইটি বম্বে, ইয়েল ইউনিভার্সিটি, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, রাজা তৃতীয় চার্লসের থেকেও বিশেষভাবে সম্মানিত হন।

অনলাইন ডেস্ক